বাংলাদেশ অনলাইন : | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
প্রিয় দলের পতাকা কিনতে ক্রেতাদের ভিড়। ছবি : সংগৃহীত
বিশ্বকাপ ফুটবলের ২৩তম আসর শুরু হচ্ছে ১১ জুন। অন্যান্য দেশের ফুটবলপ্রেমীদের মতো উচ্ছ্বাসে মেতেছে বাংলাদেশি অনুরাগীরাও। এরই মধ্যে ছড়াতে শুরু করেছে উত্তাপ। সর্বত্র লেগেছে তার ছোঁয়া। আর প্রতিবারের মতো এবারও বিশ^কাপে অংশ নেওয়া বিভিন্ন দেশের জার্সি ও পতাকা বিক্রি করতে নেমে পড়েছেন ব্যবসায়ীরা। বাজারগুলোও জমে উঠতে শুরু করেছে ক্রেতাদের পদচারণায়।
বাংলাদেশি সমর্থকদের পছন্দের তালিকায় রয়েছে কয়েকটি দেশ। তবে শীর্ষে আছে ব্রাজিল ও আর্জেন্টিনা। রাজধানীর পল্টন, গুলিস্তান, নিউমার্কেট, বিজয় সরণির ফুটপাতজুড়ে এখন উড়তে দেখা যাচ্ছে নানা দেশের পতাকা, ঝুলছে প্রিয় দলের জার্সি আর ভিড় জমাচ্ছেন ক্রেতারা। কোথাও ব্রাজিলের হলুদ-সবুজ, কোথাও আর্জেন্টিনার নীল-সাদা।
বিশ্বকাপের প্রথম বাঁশি বাজতে চারদিন বাকি, এরই মধ্যে রাজধানীতে ছোঁয়া লেগেছে ফুটবল-মহোৎসবের। যা ভাষা, বয়স আর পরিচয়ের গণ্ডি পেরিয়ে কোটি হৃদয়কে বেঁধে ফেলে এক অদৃশ্য বন্ধনে। গুলিস্তানে পতাকা বিক্রির হিড়িক পড়ে গেছে। দর্জিরা ব্যস্ত বিভিন্ন দেশের পতাকা তৈরিতে। ব্যস্ত ভ্রাম্যমাণ পতাকা ব্যবসায়ীরাও। ফুটপাতে দাঁড়িয়ে কিংবা পথে হেঁটে লাঠিতে পতাকা বেঁধে বিক্রি করছেন।
তাদেরই একজন সুমন মিয়া বলেন, ‘আগে ঝালমুড়ি বিক্রি করতাম। লাভজনক হওয়ায় এখন পতাকা, জার্সি ও ব্যাজ বিক্রি করছি।’
সুমন মিয়ার মতো অনেকেই পেশা বদলে জার্সি-পতাকা বিক্রি শুরু করেছেন। বাংলাদেশে আর্জেন্টিনা ও ব্রাজিল ফুটবল দলের ভক্ত বেশি থাকায় এই দুই দেশের পতাকা বেশি বিক্রি হচ্ছে। গত কয়েক বছরে জার্মানি, স্পেন, পর্তুগাল ও ফ্রান্সের সমর্থকও বেড়েছে। তাই এসব দেশের পতাকাও কমবেশি বিক্রি হচ্ছে বলে জানা গেছে।
ফুটপাতজুড়ে সাজানো ব্রাজিল, আর্জেন্টিনা, জার্মানি, ফ্রান্স, স্পেন, পর্তুগাল, ইংল্যান্ডসহ বিভিন্ন দেশের জার্সি। কোথাও ঝুলছে ছোট-বড় পতাকা। গুলিস্তানের ফুটপাত ছাড়িয়ে শোরুমেও একই চিত্র।
পলওয়েল মার্কেটের শোরুমে কর্মরত বিক্রয়কর্মী শফিকুল ইসলাম বলেন, বিশ্বকাপ ফুটবল বা ক্রিকেট এলেই আলাদা প্রাণ ফিরে আসে ব্যবসায়।
আরেক শোরুমের বিক্রয়কর্মী রতন বলেন, শোরুমের জার্সির কাপড় ও সেলাইয়ের মান ভালো হওয়ায় অনেকেই টেকসই জার্সি কিনতে আসেন। অনেকে শুধু বিশ্বকাপের জন্য নয়, প্রিয় দলের খেলা দেখার সময় পরার জন্যও জার্সি কেনেন।
দেখা যায়, ফুটপাতে জার্সি সাইজ ও মানভেদে ২০০ থেকে ৫০০ টাকার মধ্যে বিক্রি হচ্ছে। অন্যদিকে শোরুমগুলোতে জার্সির দাম ৫০০ থেকে ১৫০০ টাকা পর্যন্ত।
গুলিস্তানের বাজারে এখন পতাকার দোকানও বসছে। ফুটপাতের একপাশে বড় বড় বাঁশে ঝুলিয়ে রাখা হয়েছে বিভিন্ন দেশের পতাকা। কোথাও ছোট, কোথাও বিশাল আকৃতির পতাকা।
গতকাল পলওয়েল মার্কেট থেকে জার্সি কিনেছেন মগবাজার থেকে আসা সাদিকুর রহমান। বিশ্ববিদ্যালয়-শিক্ষার্থী রেদোয়ান মাহমুদ শাওন প্যান্ট কিনতে এসে ফিরছেন পর্তুগালের জার্সি নিয়ে। না নিয়ে পারলাম না- জানান তিনি।
এরই মধ্যে জমে উঠেছে নিউমার্কেটের জার্সির বাজার। ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা সমর্থকদের ভিড়ের মাঝেও ফ্রান্স ও পর্তুগালের জার্সি কিনতে আসা ক্রেতারাও রয়েছেন। দোকানের পাশাপাশি ফুটপাতেও চলছে জার্সির জমজমাট বেচাকেনা।
ফুটপাতের এক বিক্রেতা জানান, বিশ্বকাপ সামনে রেখে গত এক মাসে তার বিক্রি প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। বিশেষ করে তরুণরা মেসি ও নেইমারের স্মৃতিবিজড়িত জার্সি বেশি খুঁজছেন। পাশাপাশি এমবাপ্পে ও রোনালদোর জার্সিরও রয়েছে বেশ চাহিদা। নিউমার্কেটের দ্বিতীয় ও তৃতীয় তলার বিভিন্ন ক্রীড়াসামগ্রীর দোকানেও দেখা গেছে এই চিত্র।
নিউমার্কেটের ব্যবসায়ী রফিক মিয়া জানান, মাসের শুরু থেকেই জার্সি বিক্রি বেড়েছে। দিন যত এগিয়ে আসছে, চাহিদাও তত বাড়ছে। তার দোকানে ৩০০ টাকা থেকে শুরু করে ১ হাজার ৫০০ টাকা দামের থাই জার্সি রয়েছে। সবচেয়ে বেশি বিক্রি হচ্ছে শিশুদের জার্সি। বাবা-মায়েরা ছেলেমেয়েদের জন্য এসব জার্সি কিনছেন।
হামিদুর রহমান তার দুই মেয়ে ও এক ছেলেকে নিয়ে জার্সি কিনতে এসেছেন। পরিবারের সব সদস্যই ফুটবলপ্রেমী। তিনি, তার বড় মেয়ে এবং সপ্তম শ্রেণিতে পড়ুয়া ছেলে আর্জেন্টিনা ভক্ত। অন্যদিকে তার স্ত্রী ও ছোট মেয়ে ব্রাজিলের নেইমারের জার্সি কিনতে আগ্রহী।
গতকাল নিউমার্কেটের ফুটপাতে ছিল ক্রেতাদের প্রচণ্ড ভিড়। বিক্রেতারা জানান, তাদের কাছে ১৫০ টাকা থেকে ৩৫০ টাকা দামের জার্সি রয়েছে। ৩০০ টাকার জার্সির চাহিদাই সবচেয়ে বেশি।
ব্রাজিল-ফুটবলের অনুরাগী বেসরকারি চাকরিজীবী রাসেল মিয়া নিজের ও ছেলের জন্য জার্সি কিনেছেন ফুটপাত থেকে। স্ত্রীর জন্য কিনবেন কিনা জানতে চাইলে তিনি হাসতে হাসতে বলেন, ‘সে আর্জেন্টিনার সমর্থক। আমি তো আর তার জন্য নিজে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনতে পারি না।’
বাংলাদেশে ফুটবল বিশ্বকাপ মানেই ব্রাজিল-আর্জেন্টিনা দ্বৈরথ। রাজধানীর বাজারগুলোতেও তার প্রতিফলন স্পষ্ট। কেউ মেসির স্মৃতিতে আর্জেন্টিনার জার্সি কিনছেন, আবার কেউ ব্রাজিলের ঐতিহ্য ও আক্রমণাত্মক ফুটবলের প্রতি ভালোবাসা থেকে বেছে নিচ্ছেন হলুদ জার্সি।
বিক্রেতাদের মতে, আর্জেন্টিনা বিশ্বচ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর কয়েক বছর ধরে তাদের জার্সির বিক্রি কিছুটা এগিয়ে থাকলেও ব্রাজিল সমর্থকদের সংখ্যাও কম নয়। তাই বাজারে সবচেয়ে বেশি সরবরাহ রাখা হয়েছে এই দুই দলের জার্সি। ব্যবসায়ীরা আশা করছেন, দলগুলো মাঠে নামার সঙ্গে সঙ্গে জার্সির চাহিদা কয়েকগুণ বৃদ্ধি পাবে।
Posted ১২:০৪ অপরাহ্ণ | শনিবার, ০৬ জুন ২০২৬
Weekly Bangladesh | Weekly Bangladesh